বিটকয়েনের শীর্ষ ৫ ধনী ব্যাক্তি সম্পর্কে জেনে নিন
ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সারা বিশ্বে উন্মাদনার শেষ নেই। বিনিয়োগকারীরা তাই বিভিন্ন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় বিনিয়োগ করে থাকেন । গত দশকে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই কোটিপতি হয়েছেন

ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সারা বিশ্বে উন্মাদনার শেষ নেই। বিনিয়োগকারীরা তাই বিভিন্ন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় বিনিয়োগ করে থাকেন । গত দশকে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই কোটিপতি হয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েন চালুর প্রথম দিকে বিকেন্দ্রীকরণের নীতি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির পিয়ার-টু-পিয়ার আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। অনেকে আবার বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির অস্থির বাজারমূল্যের কারণে দুরে সরে গেছেন। এরপরও বিটকয়েনের কারণে অনেক আলোচিত ব্যাক্তি কোটিপতি হয়েছেন । ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি বিটিনফোচার্টস নামে এক প্রতিষ্ঠান শীর্ষ পাঁচ বিটকয়েন কোটিপতির নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই দিনের হিসাব মতে ১টি বিটকয়েনের দাম ছিল ৪১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে ২৪টি বিটকয়েন যাঁর কাছে রয়েছে, তাঁকেইে এক প্রকার মিলিয়নিয়ার বা কোটিপতি বলা চলে। সে তালিকার শীর্ষ পাঁচজনের সম্পর্কে জেনে নিই।
১. মার্কিন উদ্যোক্তা মাইকেল সেলর
বিটকয়েন অ্যাডভোকেট হিসেবে খ্যাত মাইকেল সেলর হলেন একজন মার্কিন উদ্যোক্তা। তিনি বিটকয়েনের সবচেয়ে বড় মালিকদের একজন হিসাবে বেশ পরিচিত। সেলর তার নিজস্ব মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মাইক্রোস্ট্র্যাটেজির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বিটকয়েনের মালিক হন। বর্তমানে তিনিপ্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন । তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোস্ট্র্যাটেজি থেকে লাভ করা অর্থ দিয়ে বিটকয়েন কিনেন। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসেবে তাঁর কাছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ বিটকয়েন রয়েছে । এর মাধ্যমে তিনি বিটকয়েনের বৃহত্তম করপোরেট ধারক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোস্ট্র্যাটেজির মালিকানায় থাকা বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৬৭৯ কোটি মার্কিন ডলার।
২. টাইলার ও ক্যামেরন উইঙ্কলেভস
উইঙ্কলেভস যমজ ভাইদের গল্প নিশ্চয় বিভিন্ন সামাজিক দুনিয়ার মাধ্যমে চোখে পড়েতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুক প্রতিষ্ঠার শুরুতে কানেকইউ নামে তাঁরাএকটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেন । পরে উইঙ্কলেভস যমজ ভাইয়েরা তাদের সামাজিক নেটওয়ার্ক অনুকরণের অভিযোগে মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে নিষ্পত্তি হয়। সেই অর্থ থেকে একটা অংশ তাঁরা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে উইঙ্কলেভস ভাইয়েরা বিটকয়েন কেনার জন্য ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন। সেই সময়ে একটি বিটকয়েনের দাম ছিল মাত্র ১০০ ডলারের সামান্য বেশি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব মতে,উইঙ্কলেভস যমজ ভাইয়েরা প্রত্যেকে আলাদাভাবে ৭০ হাজার বিটকয়েনের মালিক, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম পরিমান।
৩.ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তাঁর টুইটার বর্তমানে এক্স অ্যাকাউন্টে একটু লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে তাঁর আগ্রহ কতটা রয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ইলন মাস্ক তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সএ (সাবেক টুইটার) ক্রিপ্টো নিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত পোস্ট শেয়ার করেন। নির্দিষ্টভাবে বল্লে, ইলন মাস্ক বিটকয়েন ও ডগিকয়েনে বিনিয়োগকারী। যাদের ক্রিপ্টো নিয়ে যাদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, তাঁরা এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্ককে ২৪ ঘণ্টা অনুসরণ করেন। ইলন মাস্কের এক্সে (টুইটার) বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে অনেকবার ক্রিপ্টো জগতে ক্রিপ্টোর দাম উঠা–নামার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলার মাধ্যমে ইলন মাস্ক অনেক বিটকয়েনের মালিক। টেসলা করপোরেট বিনিয়োগনীতির অধীনে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে। সেই বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে টেসলা গাড়ি কেনার জন্য বিটকয়েন পেমেন্ট সুবিধা চালু করে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেসলায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ রয়েছে। টেসলায় ইলন মাস্কের ১৩ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। ইলন তাঁর ব্যক্তিগত বিটকয়েনের হিসেব কখনই প্রকাশ করেননি।
৪. জ্যাক ডরসি
জ্যাক ডরসি হলেন খুদে ব্লগ লেখার ওয়েবসাইট সাবেক টুইটার (এক্সে) ও ফিনটেক কোম্পানি ব্লকের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ইলন মাস্কের কাছে টুইটার বিক্রির করার আগে ডরসি টুইটারের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিটকয়েন দুনিয়াতে জ্যাক ডরসি একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। পিয়ার-টু-পিয়ার পেমেন্ট নেটওয়ার্ক বিটকয়েন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রটোকল নস্ট্র ও গোপনীয়তা-সুরক্ষাকারী ব্রাউজার টরকে সমর্থনের জন্য তিনি বেশ আলোচিত। জ্যাক তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ব্লক থেকে বিটকয়েন কেনাবেচা করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্লকের ত্রৈমাসিকের প্রতিবেদন অনুসারে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহকের কাছে ২৪১ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বিটকয়েন বিক্রি করে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্লকের কাছে প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বিটকয়েন ছিল তার প্রতিষ্ঠানটি জানায়।
৫. জাস্টিন সান
জাস্টিন সান ব্লকচেইন প্রটোকল ট্রন (টিআরএক্স)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত। সান চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান হুওবি গ্লোবালের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্লকচেইন অ্যানালিটিক্স ফার্ম আরখাম ইন্টেলিজেন্সের হিসেবে সানের কাছে ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ১ হাজার ৬০০ টি বিটকয়েন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
What's Your Reaction?






