ওয়েব-থ্রী (Web3) প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা

ওয়েব-থ্রী বা Web3 হল ইন্টারনেট বিবর্তনের পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধিত্ব করে, যার লক্ষ্য একটি বিকেন্দ্রীকৃত অনলাইন ইকোসিস্টেম তৈরি করা,যেখানে ব্যবহারকারীর ডেটা এবং ডিজিটাল পরিচয়ের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর নির্মিত, ওয়েব-থ্রী(Web3) কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন ছাড়াই স্বচ্ছ, নিরাপদ লেনদেন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

May 1, 2024 - 12:41
Nov 28, 2024 - 17:36
 0  141
ওয়েব-থ্রী (Web3) প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা

ওয়েব-থ্রী বা Web3 হল ইন্টারনেট বিবর্তনের পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধিত্ব করে, যার লক্ষ্য একটি বিকেন্দ্রীকৃত অনলাইন ইকোসিস্টেম তৈরি করা,যেখানে ব্যবহারকারীর ডেটা এবং ডিজিটাল পরিচয়ের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর নির্মিত, ওয়েব-থ্রী(Web3) কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন ছাড়াই স্বচ্ছ, নিরাপদ লেনদেন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এটি স্মার্ট চুক্তি, টোকেনাইজেশন এবং বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন (DeFi) এর মতো বৈশিষ্ট্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে জড়িত এবং লেনদেনের জন্য নতুন পদ্ধতিতে পরিচালনা  করে৷

ওয়েব-থ্রী বা  (Web3) কি?

আমরা আজ যে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি তার অনেকগুলিই ওয়েব-থ্রী(Web3)তে অন্তর্ভুক্ত।  ডিজিটাল প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে এই ভাষা। শব্দগত দিক থেকে ওয়েব এবং ওয়েব-থ্রী(web3) এর মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই । ওয়েব-থ্রী (web3) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মানগুলির মাধ্যমে মেশিন রিডেবল ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে প্রচার করে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি ওয়েব-থ্রী’র মূল ভিত্তি হিসাবে কাজ করে, যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান দ্বারা  পরিচালিত নয় এমন নেটওয়ার্কের একটি পরস্পরসংযুক্ত গ্রুপ। এই প্রযুক্তি বিকেন্দ্রীকৃত অর্থায়ন (DeFi) কে সম্ভব করে তোলে, যা কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পরিবর্তে নেটওয়ার্কের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ডিজিটাল সম্পদ যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি, স্টেবলকয়েন, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা, এবং নন-ফাঞ্জিবল টোকেনগুলি পরিচালনা করে এবং এগুলি ব্লকচেইনের কোডে তৈরি ও সংরক্ষিত হয়, যা কখনো পরিবর্তন করা যায় না।

ওয়েবের বিবর্তন

ওয়েব-থ্রী হলো ইন্টারনেটের একটি নতুন পর্যায়, যা ওয়েব2-এর কেন্দ্রীভূত সিস্টেম থেকে এক ধাপ এগিয়ে। ওয়েব2-, বড় বড় কোম্পানি যেমন গুগল, ফেসবুক এবং অ্যামাজন ইউজারদের ডেটা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু ওয়েব-থ্রীতে ব্লকচেইন প্রযুক্তির সাহায্যে এই নিয়ন্ত্রণ ইউজারদের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়। ব্লকচেইন নিরাপদ, অপরিবর্তনীয় এবং স্বচ্ছ ডেটা পরিচালনা নিশ্চিত করে এবং ইন্টারনেটে আমাদের কাজ করার পরিবেশ তৈরী করে।

 ওয়েব-থ্রীতে, স্মার্ট চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায় যা খরচ কমায় এবং দক্ষতা বাড়ায়। টোকেনাইজেশনের মাধ্যমে, ব্লকচেইনে সম্পদগুলি ডিজিটাল ফর্মে রাখা যায়, যা বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহার করা যায়। এই টোকেনগুলি ওয়েব-থ্রী প্ল্যাটফর্মগুলিতে ভোটিং এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করে।

 বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন (DeFi) এবং নন-ফাঞ্জিবল টোকেন (NFTs) এর মাধ্যমে, ওয়েব-থ্রী ক্রিপ্টোকারেন্সির গণ্ডি ছাড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, বিনোদন, এবং ফিনান্সের মতো শিল্পেও প্রভাব ফেলছে। এটি একটি নিরাপদ, ইউজার-কেন্দ্রিক এবং ন্যায্য অনলাইন ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তুলছে। এর ফলে, ইন্টারনেট হয়ে উঠছে আরও গণতান্ত্রিক, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় এবং সম্পদ নিজেরাই নিয়ন্ত্রন করতে পারে।

 এটা কিভাবে Web1 এবং Web2 থেকে আলাদা?

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে চালু হওয়া ,ওয়েব-ওয়ান (web1) হলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক যুগ, যেখানে ওয়েবসাইটগুলি সাধারণ এবংস্থিতিশীল  ছিল, মানে শুধুমাত্র পড়ার জন্য। এটা একদিকে তথ্য মেলে ধরে দেখানোর মতো, কিন্তু ব্যবহারকারীরা এতে কোনো মতামত প্রদান করতে পারেন না।

 পরে, ওয়েব-টু(web 2) এসে এই ধারাকে পরিবর্তন করে দেয়। এই পর্যায়ে, ব্যবহারকারীরা কেবল তথ্য পড়ে না, নিজেরাও তথ্য তৈরি করতে পারেন। ব্লগ, ফোরাম এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটগুলির মাধ্যমে তারা নিজেদের মতামত তথ্য শেয়ার করতে পারেন। তবে, এতে বড় বড় কোম্পানি ব্যবহারকারীদের ডেটা ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছে, যা অনেক সময় প্রাইভেসি লঙ্ঘনের কারণ হয়েছে।

ওয়েব-থ্রী এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনে। এটি একটি নতুন ধারণা, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা শুধু তথ্য পড়ে বা লেখে না, বরং নিজেরাই তাদের ডেটা সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মে, ব্যবহারকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা টোকেনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। তারা যেকোনো সিদ্ধান্তে ভোট দিয়ে সরাসরি অংশ নিতে পারেন, যা তাদেরকে ডিজিটাল বিশ্বের সত্যিকারের মালিক পরিচালক হিসেবে গড়ে তুলেছে। এতে ব্লকচেইন নামের প্রযুক্তি মালিকানার স্বচ্ছতা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ওয়েব-থ্রী(Web3) কিভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সির সাথে সম্পর্কিত?

ওয়েব-থ্রী(Web3) ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ক্রিপ্টোকারেন্সি।

Ethereum ফাউন্ডেশন দাবি করে যে "Web3 এর নিজস্ব অর্থপ্রদান রয়েছে: এটি ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট প্রসেসরের পুরানো অবকাঠামোর উপর নির্ভর না করে অনলাইনে অর্থ ব্যয় এবং প্রেরণের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে"

ওয়েব থ্রী(Web3) এর একটি মৌলিক উপাদান হল সম্পদের মালিকানার ধারণা। ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি একটি "টোকেন ইকোনমি" সহজতর করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা একটি প্ল্যাটফর্মে অবদান রাখার জন্য টোকেন উপার্জন করতে পারে। এটি সম্ভাব্যভাবে আরও সর্মথনকারী ইন্টারনেটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ওয়েব-থ্রী(Web3) সমর্থনকারী আর্থিক কাঠামো এবং প্রেরণামূলক সিস্টেমগুলি ক্রিপ্টোকারেন্সি দ্বারা সরবরাহ করা হয়।

ওয়েব-থ্রী কিভাবে কাজ করে?

ওয়েব-থ্রী, বা ইন্টারনেটের তৃতীয় প্রজন্ম, তার পূর্বসূরীদের থেকে একটি মৌলিকভাবে ভিন্ন স্থাপত্য ব্যবহার করে কাজ করবে, বিকেন্দ্রীকরণ, ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। ওয়েব-থ্রী কীভাবে কাজ করে তা নীম্নে আলোচনা করা হয়েছে:

বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক:

কয়েকটি বড় কর্পোরেশনের মালিকানাধীন কেন্দ্রীয় সার্ভার এবং ডেটা সেন্টারের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে, ওয়েব-থ্রী ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত নোডগুলির (কম্পিউটার) একটি বিতরণ করা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এই নেটওয়ার্ক কাঠামো নিশ্চিত করবে যে ইন্টারনেট একটি বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতিতে কাজ করে, এটিকে সেন্সরশিপ, আউটেজ এবং আক্রমণের জন্য কম সংবেদনশীল করে তোলে যা কেন্দ্রীভূত সিস্টেমগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে।

১. ব্লকচেইন ও ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার: ওয়েব-থ্রী ব্লকচেইন নামক একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা ডাটার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। এটি সকল ডাটা এমনভাবে সংরক্ষণ করে যে কেউ ডাটা বদলাতে পারে না এবং এর মাধ্যমে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই বিশ্বাস তৈরি হয়।

২. স্মার্ট চুক্তি: এগুলি এমন প্রোগ্রাম যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নিজে নিজেই কাজ করে যায়। এই ধরনের চুক্তি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিভিন্ন লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে।

৩. টোকেনাইজেশন: ওয়েব-থ্রী এর, ডিজিটাল টোকেন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিভিন্ন কাজে লাগে, যেমন নেটওয়ার্কে ভোট দেওয়া বা স্টেকিং এর মাধ্যমে পরিচালনা করা। এগুলি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন থেকে ডিজিটাল সরকার পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

৪. শব্দার্থিক ওয়েব ও এআই: ওয়েব-থ্রী এমনভাবে ডাটা সাজায় যে মেশিন ডাটাকে বুঝতে পারে। এটি কম্পিউটারকে ডাটার মানে বুঝতে সাহায্য করে এবং তথ্য খোঁজার উন্নতি ঘটায়।

৫. ব্যবহারকারীর ক্ষমতায়ন ও ডেটা মালিকানা: ওয়েব-থ্রীএর ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডাটা নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা নিজেরা স্থির করতে পারেন কে তাদের ডাটা ব্যবহার করতে পারবে এবং কীভাবে। এই নিয়ন্ত্রণ তাদেরকে বড় প্রযুক্তি কোম্পানির হাত থেকে ক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

৭. ইন্টারঅপারেবিলিটি: ওয়েব-থ্রী এর উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা ও অ্যাপ্লিকেশনগুলি সহজেই একে অপরের সাথে কাজ করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন এবং ঝামেলা ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে পারবেন।

 ৮. উন্নত গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা: ওয়েব-থ্রী এনক্রিপশন ও বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা ব্যবহারকারীদের ডেটা ও তথ্য সুরক্ষিত রাখে। এর ফলে ইন্টারনেটে কাজ করার সময় ব্যবহারকারীরা নিরাপদ বোধ করতে পারেন যে তাদের তথ্য চুরি বা অপব্যবহার হবে না।

সামগ্রিকভাবে, ওয়েব-থ্রী আরও সুরক্ষিত, স্বচ্ছ, এবং ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক ইন্টারনেটের দিকেেএগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে, যেখানে মান এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের কাছে চলে আসে। এই পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারনেটের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি পূরণ করা যা সকলের জন্য বৈধ এবং অ্যাক্সেসযোগ্য।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশ

ওয়েব-থ্রী(web3)এর আওতায়, যে অ্যাপ্লিকেশনগুলি তৈরি হচ্ছে, তাদেরকে 'বিকেন্দ্রীভূত অ্যাপ্লিকেশন' বা 'dApps' বলা হয়। এই dApps-এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে নতুন ধরনের পরিবর্তন আনা এবং ব্যবসায়িক নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই অ্যাপগুলি ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডাটার নিরাপত্তা স্বচ্ছতা বজায় থাকে, যা বিশ্বাস নিরাপত্তার সাথে লেনদেন সম্ভব করে তোলে। বিশ্বজুড়ে এই ধরনের অনেক অ্যাপ প্রোটোকল ইতিমধ্যেই প্রচলিত হতে শুরু করেছে এবং ওয়েব 3.0-এর সাথে তাদের ব্যবহার আরও বাড়তে থাকবে।

এখানে আটটি ওয়েব-থ্রী(Web3) অ্যাপ্লিকেশনের উদাহরণ সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হলো:

১.ইথেরিয়াম: ইথেরিয়াম একটি প্ল্যাটফর্ম যা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন চালাতে সাহায্য করে। এটি বিকেন্দ্রীকৃত অ্যাপগুলি চালানোর জন্য একটি জনপ্রিয় জায়গা।

২.ব্রেভ(Brave): ব্রেভ একটি ব্রাউজার যেখানে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখে টাকা পেতে পারেন। এটি ওয়েবে ব্রাউজ করার একটি নতুন সুযোগ প্রদান করে।

৩.ইউনিসোয়াপ (Uniswap): ইউনিসোয়াপ একটি অ্যাপ যা ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ করতে সাহায্য করে এবং এটি বিকেন্দ্রীভূত। এখানে ব্যবহারকারীরা নিজেরা নিজেদের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করেন।

৪.আভ (Aave): আভ একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে লোকেরা টাকা ধার দিতে পারে এবং ধার নিতে পারে বিনা মধ্যস্থতায়।

৫.রিয়েলটি (RealT): রিয়েলটি একটি অ্যাপ যা রিয়েল এস্টেটকে ডিজিটাল টোকেনে পরিণত করে যাতে বিনিয়োগকারীরা ছোট ছোট অংশে বিনিয়োগ করতে পারে।

৬.সেট প্রোটোকল (Set Protocol): সেট প্রোটোকল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে পারেন।

৭.নেক্সাস মিউচুয়াল (Nexus Mutual): এটি একটি বিকেন্দ্রীভূত বীমা প্ল্যাটফর্ম যা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং অন্যান্য স্মার্ট চুক্তিগুলিকে বিমা করতে সাহায্য করে।

৮.ইনস্ট্যান্টড্যাপ (Instadapp): ইনস্ট্যান্টড্যাপ একটি ব্যাঙ্কিং প্ল্যাটফর্ম যা ডিজিটাল ফিনান্স প্রোটোকলগুলির সাথে সহজে ইন্টারঅ্যাকশন সম্ভব করে। এটি লোকেদের ঋণ নেওয়া, পুনঃফিনান্সিং এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার সমাধান প্রদান করে।

এগুলো সবই ওয়েব-থ্রী(Web3) প্রযুক্তির উদাহরণ, যা ব্লকচেইন ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বিকেন্দ্রীভূত এবং নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করে।

উপসংহার

ওয়েব-থ্রী(Web3) হলো ইন্টারনেটের একটি নতুন ধাপ যেখানে সবকিছু আরো বিকেন্দ্রীভূত ও নিরাপদ হয়। এটি মানুষকে তাদের ডেটা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেয় এবং বিভিন্ন অনলাইন ক্রিয়াকলাপে আরও নিয়ন্ত্রণ দেয়। ব্লকচেইন, স্মার্ট কন্ট্রাক্ট এবং টোকেনাইজেশনের মাধ্যমে, ওয়েব-থ্রী(Web3) একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ডিজিটাল অর্থনীতি সৃষ্টি করে যেখানে সবাই শুধু পণ্য গ্রাহক নয়, তারা নিজেদের পছন্দের অনলাইন পরিবেশগুলো পরিচালনায় সরাসরি অংশ নিতে পারে। এই নতুন প্রযুক্তি আরো স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল দুনিয়া তৈরি করেছে যা আগের ইন্টারনেট পদ্ধতির চেয়ে বেশি মুক্ত ও ন্যায্যতাপূর্ণ।  ওয়েব-থ্রী(Web3)এর ক্রমবর্ধমান প্রসার আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক মিডিয়া এবং বিনোদনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে এবং আরো উন্নত ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow