মার্কেটে ডলার-কস্ট-এভারেজিং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানুন
ডলার-কস্ট-এভারেজিং হল এমন একটি কৌশল যা অস্থির বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রিপ্টো কেনার মাধ্যমে লোকসান এড়াতে সাহায্য করে। এই কৌশলটি বিনিয়োগকারীদের সাধারণ বিনিয়োগের বাজারেও লোকসান এড়াতে সাহায্য করে। ডলার-কস্ট-অ্যাভারেজিং কনস্টেন্ট ডলার প্লান নামেও পরিচিত।

ডলার-কস্ট-এভারেজিং হল এমন একটি কৌশল যা অস্থির বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রিপ্টো কেনার মাধ্যমে লোকসান এড়াতে সাহায্য করে। এই কৌশলটি বিনিয়োগকারীদের সাধারণ বিনিয়োগের বাজারেও লোকসান এড়াতে সাহায্য করে। ডলার-কস্ট-অ্যাভারেজিং কনস্টেন্ট ডলার প্লান নামেও পরিচিত।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং হল দাম নির্বিশেষে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে একই পরিমাণ অর্থ একটি নিরাপদ বিনিয়োরগে পরিণত করার অনুশীলন। ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে, বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার প্রতি গড় খরচ কমাতে পারেন এবং তাদের পোর্টফোলিওতে অস্থিরতার প্রভাব কমাতে পারেন।
মূলত, এই কৌশলটি বাজার থেকে সর্বোত্তম মূল্যে কেনার জন্য সময় অপচয় এবং আবেগী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখে।
ডলার-কস্ট-এভারেজিং কীভাবে কাজ করে
ডলার-কস্ট-এভারেজিং হলেএমন একটি সহজ কৌশল যা একজন বিনিয়োগকারীকে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ সঞ্চয় এবং তৈরি করতে সহায়তা করে। এটি একজন বিনিয়োগকারীর জন্য বৃহত্তর বাজারে স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতার বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি উপায়ও বটে।
৪০১(কে) প্ল্যানে দীর্ঘমেয়াদী ডলার-কস্ট এভারেজিং এর ব্যবহার অন্যতম দৃষ্টান্ত, যেখানে বিনিয়োগের মূল্যে নির্বিশেষে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত বিনিয়োগ করে থাকেন।
৪০১(কে) প্ল্যানের মাধ্যমে, ব্যবসায়ীরা তাদের অংশীদারের পরিমাণ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা বেছে নিতে পারেন। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতিটি বিনিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয়। বাজারের অবস্থার উপর নির্ভর করে ব্যবসায়ীরা তাদের অ্যাকাউন্টে আরও বড় বা ছোট অংকের সিকিউরিটি যোগ করতে পারে।
৪০১(কে) প্ল্যানের বাইরেও ডলার-কস্ট-এভারেজিং ব্যবহার করা যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল বা ইন্ডেক্স ফান্ডে, ট্রাডিশনাল আইআরএ, অথবা করযোগ্য ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্টের মতো অন্য কোনও কর-সুবিধাপ্রাপ্ত অ্যাকাউন্টের নিয়মিত ক্রয়ের জন্য ডলার-কস্ট-এভারেজ ব্যবহার করতে পারেন।
ইটিএফ ট্রেডিংয়ে আগ্রহী নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-কস্ট এভারেজিং হল অন্যতম সেরা কৌশল। এছাড়া, ডলার-কস্ট এভারেজিং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পুনঃবিনিয়োগ পরিকল্পনায় ও নিয়মিত ক্রয় করার সুযোগ দেয় ।
ডলার-কস্ট এভারেজিংয়ের সুবিধা
· ডলার-কস্ট-এভারেজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ আপনার গড় খরচ হ্রাস করে।
· এটি সময়ের সাথে সাথে সম্পদ তৈরি করার জন্য নিয়মিত বিরতীতে বিনিয়োগের অনুশীলনকে কাজে লাগায়।
· এটি স্বয়ংক্রিয়, তাই বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন নেই।
· বাজারের দাম ইতিমধ্যেই বেড়ে গেলে কেনার ঝামেলা থেকে এটি আপনাকে বিরত রাখে।
· এটি নিশ্চিত করে যে আপনি কেনার জন্য প্রস্তুত আছেন এবং ইতিমধ্যেই কোনও কারণে যদি দাম বেড়ে যায় তখনও আপনি বাজারে আছেন।
· এটি আপনার বিনিয়োগগুলিকে আবেগপ্রবণ হওয়া থেকে বিরত রাখে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে আপনাকে রক্ষা করে এবং পোর্টফোলিওকে সমৃদ্ধ করে।
ডলার-কস্ট-এভারেজিং কারা ব্যবহার করবে
ডলার-কস্ট-এভারেজিং বিনিয়োগ কৌশলটি যে কোনও বিনিয়োগকারী ব্যবহার করতে পারেন যারা এর সুবিধা নিতে আগ্রহী। এর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য নিম্ন গড় খরচ, নিয়মিত বিরতিতে স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগ এবং বাজার অস্থির থাকাকালীন সময়ে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ এড়ানোর একটি অন্যতম উপায়।
ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে, যাদের কেনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মুহূর্তগুলি বিচার করার অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা এখনও এখনো হয় নি।
যারা দীর্ঘমেয়াদী এবং নিয়মিত বিনিয়োগ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিন্তু বাজার পর্যবেক্ষণ এবং অর্ডার দেওয়ার সময় বা প্রবণতা তাদের নেই, সেই সব বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য কৌশল হতে পারে।
তবে, ডলার-কস্ট-এভারেজিং সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যেখানে দাম কেবল মাত্র এক বা অন্য দিকে স্থিরভাবে প্রবণতা দেখায় সেখানে বিনিয়োগের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। ডলার-কস্ট-এভারেজিং ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বিনিয়োগ পদ্ধতি এবং বৃহত্তর বাজার সম্পর্কে গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডলার-কস্ট-এভারেজিং এ যে সব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন
এটা মনে রাখা উচিত যে ডলার-কস্ট-এভারেজিং পদ্ধতি যখন দাম অস্থির থাকে তখন ভালো কাজ করে । যদি দাম বাড়তে থাকে, তাহলে ডলার-কস্ট- এভারেজিং ব্যবহারকারীদের কম শেয়ার কেনা উচিত। আবার, যদি ক্রমাগত দাম কমতে থাকে, তাহলে তাদের সাথে থাকা এবং ক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
তবে, এই কৌশলটি বিনিয়োগকারীদের বাজার মূল্য হ্রাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে না। অন্যান্য অনেক দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের মতো এই কৌশলটি ধরে নেয় যে দাম মাঝে মাঝে কমতে পারে, এবং শেষ পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পাবে।
কোন নির্দিষ্ট কোম্পানির উপর বিস্তারিত গবেষণা না করেই পৃথক স্টক কেনার ক্ষেত্রে এই কৌশল প্রয়োগ করলে ক্ষতি হতে পারে কারণ যখন একজন বিনিয়োগকারী কোনও কোম্পানিতে শেয়ার কেনা বন্ধ করে দেন বা কোনও অবস্থান থেকে বেরিয়ে যান, তখন তারা অবশ্যই অন্য একটি স্টক কিনবেন।
কম তথ্য সমৃদ্ধ বিনিয়োগকারীদের বেলায় পৃথক স্টক কেনার পরিবর্তে ইন্ডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ।
সাধারণত, যারা ডলার-কস্ট-এভারেজিং ব্যবহার করেন তারা সময়ের সাথে সাথে বিনিয়োগের উপর তাদের খরচের পরিমাণ হ্রাস করেন। কম খরচের ভিত্তিতে দাম কমে যাওয়া, বিনিয়োগে কম ক্ষতি এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়া বিনিয়োগে বেশি লাভ হবে।
ডলার-কস্ট-এভারেজিং এর উদাহরণ
একটি উদাহরণের মাধ্যমে ডলার-কস্ট-এভারেজিং কৌশল সম্পর্কে একটা ধারণা নেওয়া যাক। ধরুন আমাদের কাছে ১০,০০০ ডলার আছে, এবং আমরা মনে করি এটি বিটকয়েনে বিনিয়োগ করার জন্য একটি ভাল সময়। আমরা ধরে নিলাম বাজার মূল্য সম্ভবত বর্তমান অবস্থায় থাকবে, এবং এটি ডলার-কস্ট-এভারেজিং কৌশল ব্যবহার করে সঞ্চয় এবং অবস্থান তৈরি করার জন্য একটি উপযুক্ত সময়।
এখন, বিটকয়েনের বাজার মূল্য নির্বিশেষে, আমরা ১০,০০০ ডলার কে ১০০ দিয়ে ভাগ করব এবং প্রতিদিন ১০০ ডলার মূল্যের বিটকয়েন কিনব। এইভাবে, আমরা আমাদের বিনিয়োগকে ১০০ দিনের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।
এখন, আসুন একটি ভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে ডলার-কস্ট-এভারেজিং এর নমনীয়তা তৈরি করি। ধরুন, বিটকয়েন সবেমাত্র একটি মন্দা বাজারে প্রবেশ করেছে, এবং দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় প্রবেশ করতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। অবশেষে, একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যাশিত, এবং আমরা আগে থেকেই একটির জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই।
আমাদের যদি দীর্ঘ সময়ের সীমারেখা থাকে তবে কি একই কৌশল ব্যবহার করা উচিত? সম্ভবত না। এই বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর সীমারেখা অনেক দীর্ঘ। তাই, আমাদের এই ১০,০০০ ডলারের জন্য আরও দুই বছরের জন্য এই বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
এবার আমরা এই বিনিয়োগকে ১০০ ডলারের ১০০ ভাগে ভাগ করব, এবং প্রতি সপ্তাহে ১০০ ডলার মূল্যের বিটকয়েন কিনব। যেহেতু বছরে প্রায় ৫২ সপ্তাহ থাকে, তাই পুরো কৌশলটি দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
এইভাবে, আমরা নিম্নমুখী প্রবণতার সময় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে পারি। যখন কোনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় তখন আমরা সুযোগটি হাতছাড়া করতে পারি না এবং নিম্নমুখী প্রবণতায় কেনার ঝুঁকিও আমাদের কমাতে হবে।
তবে, এটা মনে রাখা ভালো যে, সর্বোপরি, নিম্নমুখী প্রবণতায় কেনাকাটা করলেও এই কৌশলটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য, নিম্নমুখী প্রবণতার সর্বশেষ স্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো হতে পারে। যদি তারা অপেক্ষা করে, তাহলে এভারেজ কস্ট বা শেয়ারের দাম বেশি হতে পারে, তবে বিনিময়ে নেতিবাচক ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
উপসংহার
ডলার-কস্ট-এভারেজিং হল বাজারের অস্থিরতার প্রভাব কমিয়ে একটি অবস্থানে প্রবেশের জন্য একটি ব্যয়-সাশ্রয়ী কৌশল। মূল উদ্দেশ্য হল বিনিয়োগকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা এবং নিয়মিত বিরতিতে ক্রয় করা।
এই কৌশলের প্রধান সুবিধা হল এটি বাজারের সময়ের গুরুত্ব হ্রাস করে, যা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। যেসব বিনিয়োগকারী সক্রিয়ভাবে বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য সময় দিতে পারেন না তারা এখনও DCA পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
তবে, কিছু সন্দেহবাদী যুক্তি দেন যে ডলার-কস্ট-এভারেজিং কৌশল বিনিয়োগকারীদের বুল মার্কেটের সময় লাভ থেকে বঞ্চিত করতে পারে। যদিও কিছু লাভ হাতছাড়া করা তেমন বড় ক্ষতি নয়, তবুও ডলার-কস্ট-এভারেজিংকে অনেকে এখনও একটি সুবিধাজনক এবং কার্যকর বিনিয়োগ কৌশল হিসাবে বিশ্বাস করেন।
What's Your Reaction?






